Table of Content

শিশুর প্রথম শক্ত খাবার - সঠিক সময় ও নিয়ম

9 December, 2025

শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত তার একমাত্র পুষ্টির উৎস হলো শুধু মাত্র বুকের দুধ বা শিশু ফর্মুলা( বিশেষ শারীরিক অবস্থায়)। তবে শিশুর বয়স ৬ হলে তার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, চাহিদা পূরণের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই সময় অনেক মা–বাবার মনে প্রশ্ন জাগে—

  • শিশু কি সত্যিই শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত?
  • কখন শুরু করা উচিত?
  • আর কোন খাবারটি শিশুর জন্য সঠিক হবে?


এই আর্টিকেলে আমরা এই প্রশ্ন গুলির উত্তর সহজ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু বুকের দুধ বা শিশু ফর্মুলার পাশাপাশি অন্য খাবারের জন্য প্রস্তুত-

শিশু সাধারণত ৬ মাস বয়স থেকে বুকের দুধ বা শিশু ফর্মুলা ( বিশেষ শারীরিক অবস্থায়) –র পাশাপাশি শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়। তবে প্রতিটি শিশুর বিকাশে ভিন্নতা থাকতে পারে - তাই কিছু লক্ষণ থেকে বোঝা যায় শিশু শক্ত খাবারের জন্য প্রস্তুত।

শিশু শক্ত খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার লক্ষণঃ

  • শিশু একা বা সাপোর্ট নিয়ে বসতে পারে।
  • মাথা ও ঘাড় ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  • খাবার দেখলে মুখ খোলে।
  • খাবার মুখে নিয়ে ঠেলে না দিয়ে গিলে ফেলতে পারে
  • মুখের কাছে জিনিস আনতে পারে।
  • খেলনা বা ছোট খাবার ধরার চেষ্টা করে।
  • জিহ্বা দিয়ে খাবার সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে সরিয়ে নিতে পারে।
  • শিশুর প্রথম শক্ত খাবার

    আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP)- এর মতে —শিশুকে নির্দিষ্ট ক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন খাবার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৬ মাস থেকে শিশুকে নরম ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। ৭–৮ মাস বয়সে নিম্নলিখিত সব খাদ্যগোষ্ঠী থেকে খাবার দিতে হবে:

    • শিশু খাদ্য (সিরিয়াল)
    • মাংস, মাছ ও অন্যান্য প্রোটিন
    • ফল
    • শাকসবজি
    • শস্যজাত খাবার
    • দই
    • পনির
    • শিশুকে ভাতের পাশাপাশি ওটস, বার্লি ও অন্যান্য শস্যজাত নরম খাবারও দেওয়া যাবে।


    শিশুকে নতুন খাবারের সাথে পরিচয় করানোর নিয়মঃ

    • প্রথমে একটি মাত্র খাবার দিন।
    • শিশুর অ্যালার্জি আছে কি না বোঝার জন্য ৩–৫ দিন বিরতি দিন।
    • সম্ভাব্য অ্যালার্জেন- গরুর দুধজাত খাবার, চিংড়ি, কাঠবাদাম ও চিনাবাদাম, গম, সয়াবিন ও তিল


    ১২ মাস বয়সের আগে গরুর দুধ বা সয়াবিন সমৃদ্ধ পানীয় না দেওয়াই ভালো। তবে দই আগে দেয়া যেতে পারে। ডিমে অ্যালার্জি থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করুন।

    শিশুর প্রথম খাবার তৈরির পদ্ধতিঃ



    শুরুর পর্যায়ে খাবার হওয়া উচিত—

    • মসৃণ
    • চটকানো
    • পিউরি করা
    • ছাঁকা


    শিশু নতুন স্বাদের সাথে খাপ খাওয়াতে সময় নিতে পারে, কাশি বা থুতু করে খাবার ফেলে দিতে পারে—এটা স্বাভাবিক ব্যপার। খাবার অবশ্যই নরম ও সহজে গেলা যায় এমন হতে হবে। সব সময় শিশুর মুখে অল্প পরিমাণে খাবার দিন ও শিশুকে নজরে রাখুন। শিশুর খাওয়ার দক্ষতা বাড়লে নরম পিণ্ডযুক্ত খাবার দিতে পারবেন।

    শিশুর জন্য খাবার তৈরির টিপসঃ

    • শস্যদানা চটকে বুকের দুধ, ফর্মুলা বা পানি মিশিয়ে নরম করুন।
    • শাকসবজি/ফল মসৃণ বা পিউরি করে দিন।
    • খাবার এমনভাবে রান্না করুন যাতে কাঁটাচামচ দিয়ে সহজে পিষে ফেলা যায়।
    • আপেল-গাজরের মতো শক্ত ফল/সবজি ভালোভাবে সিদ্ধ করে নরম করুন।
    • মাংস/মাছ রান্নার আগে চর্বি, চামড়া ও হাড় ফেলে দিন।
    • ফলের বীজ ফেলে ছোট ছোট টুকরো করুন।
    • নরম খাবার ছোট কিউব বা পাতলা স্লাইস করে দিন।
    • মাছ-মাংস/পনির গোলাকার না রেখে লম্বা পাতলা টুকরো করুন।
    • আঙ্গুর, চেরি, বেরি, টমেটো ছোট ছোট করে কাটুন।
    • চাল, গম, যবসহ যেকোনো গোটা শস্য সিদ্ধ করে সূক্ষ্মভাবে পিষে দিন।


    শক্ত খাবারের সাথে পরিচিত হওয়া শিশুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ৬ মাস বয়সের পর শিশুর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারের প্রয়োজন হয়।। সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে নিরাপদ ওপুষ্টিকর খাবার শুরুর মাধ্যমে শিশুর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।

শক্ত খাবারের সাথে পরিচিত হওয়ার সময়ে মায়েদের করা কিছু প্রশ্ন

১. প্রথম শক্ত খাবার কি তরল বা পাতলা করে দেওয়া উচিত?

হ্যাঁ, একদম প্রথম দিকে খাবার একটু পাতলা করে দেওয়া ভালো। এতে শিশু সহজে গিলতে পারে এবং খাবারের টেক্সচারে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়। পরে ধীরে ধীরে ঘন করলে চিবানো-গেলার দক্ষতা বাড়ে।

২. প্রথম খাবারে কি লবণ বা চিনি দেওয়া যায়?

না, ১ বছরের আগে শিশুর খাবারে লবণ, চিনি বা মধু দেওয়া উচিত নয়। এগুলো কিডনি ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে মিষ্টি-লবণাক্ত স্বাদের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তৈরি করে।

৩. শিশু খাবার না খেতে চাইলে কী করা উচিত?

জোর করা যাবে না। খাবার শুরুতে শিশুরা অনেক সময় স্বাদ নিতে চায় কিন্তু খেতে চায় না—এটা স্বাভাবিক। কয়েক দিন পর আবার একই খাবার অফার দিন। হাসিখুশি পরিবেশে খাওয়ালে খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।